ইউটিউব মার্কেটিং করে এডসেন্স ছাড়া ও আয় করার ৭ টি উপায়

ইউটিউব মার্কেটিং করে এডসেন্স ছাড়া ও আয় করার ৭ টি উপায়

আমাদের অনেকের মধ্যেই এই ধারণাটা থাকতে পারে যে, ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে শুধু গুগল এডসেন্স থেকেই আর্ন করা যায়। আসলেই ব্যাপারটা ভুল, ইউটিউব ভিডিও থেকে আয়ের আরো অনেক গুলো পদ্ধতি রয়েছে।

সেসব বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা হবে।

তো বেশী ভুমিকা না করে সরাসরি আলোচনায় আসি।

 

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

Amazon Affiliation

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মুল থিমটা একদম সিম্পল, আপনাকে অন্য কোন কোম্পানির পণ্য আপনার ভিডিওর মাধ্যমে প্রমোট করতে হবে। ওই পণ্য কিনার জন্য ডেস্ক্রিপশনে আপনার রেফারেল লিংক থাকবে, কোন মানুষ আপনার ভিডিও ডেস্ক্রিপশন থেকে ক্লিক করে পণ্যটি কিনলে আপনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমিশন হিসেবে আয় করবেন।

কমিশন কত হবে, সেটা নির্ভর করছে আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের উপরে। আমার মতে দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম।

অবশ্য অ্যামাজনে ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে এপ্রুভড পাওয়াটা কিছুটা কঠিন, কিন্তু ভিডিও কোয়ালিটি ঠিক থাকলে এপ্রুভ পাওয়া কোন ব্যাপার নাহ।

 

২. সি পি এ মার্কেটিং

CPA Marketing

সি পি এ বা কস্ট পার একশন- খুবই কার্যকর একটা পদ্ধতি অনলাইন থেকে আয়ের। নানা ধরণের সিপিএ মার্কেটিং কোম্পানি গুলোতে আপনি পাবলিশার হিসেবে জয়েন করতে পারেন, সেখান থেকে আপনার নিশের সাথে রিলেটেড অফার গুলো চয়েজ করে সেগুলোর সাথে যায় এমন ভিডিও বানিয়ে ওই অফার গুলো আপনি প্রমোট করতে পারেন।

অনলাইন আয়ে সিপিএ বিশাল বড় একটা মার্কেট। আপনি চাইলেই আপনার ইউটিউব ভিডিও এর মাধ্যমে সিপিএ অফার প্রমোট করতে পারেন।

 

৩. সরাসরি নিজের পণ্য সেল করুন

Sell Your Own Product

আপনি কি নিজে কোন পণ্য তৈরি করেন বা কোন পণ্য অফলাইনে বিক্রি করেন? আপনি চাইলে সেই পণ্যের রিভিউ ভিডিও বানাতে পারেন।

ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্স করে, কোয়ালিটি ভিডিও বানাতে পারলে সেল আসবেই। আবার আপনি যদি মনে করেন, ইউটিউবের উপর ডিপেন্ড করে ই-কমার্স শুরু করে দিবেন, তাহলে সেটা খুব ভালো একটা সিদ্ধান্ত হবে না।
কারণ প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও তৈরি করা কিছুটা খরুচে কাজ, সেক্ষেত্রে ই-কমার্স করলে আপনাকে হিউজ পরিমাণ কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। একেবারে যে অসম্ভব তা কিন্তু নাহ, তবে কিছু বেমানান।

 

৪. ভিডিওতে এড দিতে পারেন কোন লোকাল কোম্পানির

sponsorship

ধরেন, আপনার লাখো সাবস্ক্রাইবার আছে এবং আপনি ইউটিউবে বেশ পপুলার। এবং রিয়েল লাইফে ও আপনার একটা ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে ইউটিউবের কারনে।

এমতাবস্থায় আপনি চাইলেই আপনার ভিডিওর জন্য স্পন্সর পাবেন।

সেক্ষেত্রে ভিডিও মধ্যে ব্যানার ইউজ না করে, কন্টেন্টের ভিতরে ট্রিক্সস ইউজ করে বা স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে স্পন্সরকে প্রমোট করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

৫. গুগল এডসেন্সে মনিটাইজ করুন

Google AdSense

এটা সবাই করে, ইউটিউব পার্টনার হিসেবে জয়েন করবেন। ইউটিউব আপনার ভিডিওতে এডভার্টাইজারদের এড দেখাবে। এর মধ্যে এডভার্টাইজার ইউটিউবকে যা পে করবে, এর একটা পরিমাণ আপনার সাথে শেয়ার করবে ইউটিউব।

ইউটিউব ভিডিও এডসেন্স দিয়ে মনিটাইজ করতে চাইলে অনেক রুলস রয়েছে ইউটিউবের, ওসব অবশ্যই ভালো-ভাবে স্টাডি করে নিবেন শুরু করার আগে।

 

৬. কনসাল্টিং সার্ভিস প্রদান করা

Consulting

আপনি যদি কোন উকিল, ইঞ্জিনিয়ার বা ডেন্টিস্ট টাইপের কিছু হন, তাহলে আপনার পেইড কনসাল্টিং সার্ভিস প্রমোট করতে পারেন ইউটিউবে। অনেক আমেরিকান প্রফেশনালরাই এটা করে থাকেন।

 

৭. ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের পোর্টফলিও প্রমোশন করে হিউজ ক্লায়েন্ট পেতে পারেন

portfolio

আপওয়ার্ক, ফাইভার এসব মার্কেট প্লেস দিন দিন, জটিল আর খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আপওয়ার্কে তো একাউন্ট এপ্রুভ করানোই এখন বিশাল বড় একটা টাস্ক। এই অবস্থায় আপনি যদি আপনার কাজের অসাধারন কিছু ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ভিডিও মার্কেটিং করেন তাহলে ভালো পরিমাণ ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

শেষ কথা

সবার উপরে কোয়ালিটি কন্টেন্ট সত্য, এই কথাটা মনে রাখবেন যদি সফল ইউটিউবার হতে চান। ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে থাকেন, এক সময় না এক সময় রিটার্ন পাবেন। ইউটিউবের রুলস গুলোকে সম্মান কইরেন ভালো কিছু করতে পারবেন।

ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *