ব্লগিং এ সফলতার পাঁচটি মুল মন্ত্র

ব্লগিং এ সফলতার পাঁচটি মুল মন্ত্র

হাই, আরেকটি ব্লগিং রিলেটেড পোস্টে সবাইকে স্বাগতম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে আলোচনা করব ব্লগিং পাঁচটি মুলমন্ত্র নিয়ে যা ফলো করলে আপনার ব্লগিং জার্নি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আপনি যদি ব্লগিং শুরু করে থাকেন কিংবা যদি ব্লগিং শুরু করবেন বলে ভেবে থাকেন তাহলে এই লেখা আপনার জন্য।

আসুন মুল আলোচনায় চলে যাই।

 

১. নিজের প্যাশনকে ফলো করা

আমি সব সময়ই এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলে আসছি, যে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ করলেই সবচেয়ে বেশি সফলতা পাওয়া যায়।

আমি যখন ব্লগিং শুরু করি তখন অন্যান্য ব্লগারদের মত আমি ও হেলথ এবং অন্যান্য কিছু কমন নিশ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাস খানেকের মধ্যেই আমি আবিষ্কার করি যে, এটা আমার জন্য পার্ফেক্ট নাহ, আমি হেলথ নিয়ে লেখালেখি কন্টিনিউ করতে পারবো না।

তখন আমি সাথে সাথেই ওই সাইটটা সেল করে দিই এবং একটা লম্বা সময় অবসর কাটাই, এর মধ্যে আমি প্রচুর পরিমাণ স্টাডি করি ব্লগিং নিয়ে। বলতে গেলে প্রায় সব ফেমাস ব্লগারদের ব্লগিং গাইড এবং ফ্রি ইবুক পড়া শেষ হয়ে গিয়েছিলো।

ওইটা কম পক্ষে ৩ মাসের মত ছিলো। তো ফাইনালি আমি আবিষ্কার করি যে মানুষের পার্সোনাল লাইফ এবং রিলেশন কিংবা মানুষকে মোটিভেট করাটা আমি অনেক উপভোগ করি। তখন শুরু হলো আরেকটা স্টাডি করার অধ্যায়, ওই নিশ নিয়ে প্রায় মাস খানেক ঘাটাঘাটি করলাম এবং একটা পুর্নাংগ প্ল্যান দাড় করালাম।

পাশাপাশি আমার ছোট খাটো একটা টিমের মাধ্যমে একটা টেক ব্লগের কাজ চলছিলো, আমি বলতে গেলে ওখানে একজন রোবটের মত রেগুলার কন্টেন্ট লিখতে থাকি।

এরই মাঝে লাইফ, রিলেশনশিপ এবং মোটিভেশন নিয়ে ব্লগ শুরু করি একা একা। ১০ টার মত পোস্ট দেওয়ার পরে আমি একটা সাড়া পাই অডিয়েন্স থেকে এবং অটো কিছু ন্যাচারাল লিংকিং হয় আমার দুইটা কন্টেন্ট।

ওই ব্যাপারটা আমাকে খুবই মোটিভেট করে এবং আমি পুরো দমে কাজ চালিয়ে যাই। আমার একক কাজ করা সবচেয়ে সফল ব্লগ ওইটাই। আমি খুব বেশী লিংক বিল্ডিং কিংবা এস ই ও রুলস ফলো করি নি ওই ব্লগে। জাস্ট যখন যা মাথায় আসছে তাই সাজিয়ে বড় করে, রিসার্স করে অনেক ইনফো, ইমেজ, ভিডিও দিয়ে কন্টেন্ট পোস্ট করেছি।

এবং ফাইনালি এটা অনুভব করেছি যে, আমি আমার প্যাশন মানে আমার যা করতে ভালো লাগে সেটা করেছি বলেই এই ব্লগটা কিছুটা হলে ও প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।

সো, ব্লগিং শুরু করার আগে বুঝে নিন আপনার প্যাশন কি এবং ভালো ভাবে স্টাডি এবং রিসার্চ করে নিন আপনার টপিক নিয়ে। প্যাশন ঠিক থাকলে অনেক সময় কম্পিটিশন ও ম্যাটার করে না, কিন্তু ট্যাকনিকালি চিন্তা করলে অবশ্যই কম্পিটিশনের ব্যাপারটা ও মাথায় রাখতে হবে।

 

২. আগে শিখতে হবে, পরে আয় করতে হবে

এটা শুধু ব্লগিং না, যেকোন ধরণের ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে খাটে। আপনাকে আগে অবশ্যই ব্লগিং এর এ টু জেড সম্পর্কে জানতে হবে।

আপনাকে বুঝতে হবে যে আসলে একটা ব্লগ কীভাবে তৈরি করা লাগে, আপনি ব্লগার হওয়ার উপযুক্ত কি না। আপনি যখন শিখতে যাবেন, তখন এসব ব্যাপার একদম ক্লিয়ার হয়ে যাবে আপনার কাছে।

একদম নিশ বাছাই করা থেকে শুরু করে, আপনার কেমন খরচ হতে পারে এবং একদম কীভাবে ব্লগকে মনিটাইজ করা যাবে সব কিছু আগে আপনাকে স্টাডি করে শিখতে হবে।

এর জন্য আপনি অনলাইনে নানা ধরণের ব্লগিং টিপস রিলেটেড ব্লগের উপর ডিপেন্ড করতে পারেন। কিংবা ব্লগিং নিয়ে কোর্স ও করতে পারেন।

 

৩. যোগাযোগের দক্ষতা

যোগাযোগের দক্ষতা আপনার তখনই লাগবে যখন আপনি আপনার ব্লগকে একটা বড় বিজনেস কিংবা অথোরিটি আকারে দাড় করাতে চাইবেন। আর আমি জানি যে সবাইই চায় তার ব্লগ অনেক বড় হোক।

এর জন্য আপনার কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

দেশী, বিদেশী ব্লগারদের সাথে মিলে ব্লগারস নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।

যোগাযোগের দক্ষতা ভালো হলে আপনার কি কি লাভ হবে দেখে নিনঃ

  • গেস্ট ব্লগিং করতে পারবেন খুব সহজে
  • লিংক বিল্ডিং সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারবেন
  • অন্যান্য ব্লগারদের কাছ থেকে ভালো কন্টেন্ট পাবেন আপনার ব্লগের জন্য
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে বিশাল কাজে দিবে
  • যেকোন সার্ভিস কিংবা প্রোডাক্ট প্রমোট করতে ও অনেক কাজে লাগবে
  • নিজের পরিচিতি বাড়াতে কাজে লাগবে
  • অন্য ব্লগে নিজের ইন্টারভিউ পাবলিশের সুযোগ পাবেন

এছাড়া ও আরো নানা ধরণের ব্যাপার আছে যা খুবই জরুরি।

 

৪. যেকোন একটা ব্লগে নিজেকে ফোকাস রাখতে হবে

সফলতা কিংবা বিফলতা দুইটার মধ্যে একটা পুর্নাংগভাবে না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটা ব্লগে নিজেকে ফোকাস রাখবেন।

বড় পরিমাণ আয় করার জন্য অনেক ব্লগ লাগে না, একই ব্লগেই অনেক এফোর্ট দিয়ে ওইটা করা সম্ভব। বাট আপনি যখন সব কিছু পরিষ্কার ভাবে বুঝে যাবেন এবং ব্লগ থেকে আয় করা শুরু করবেন তখন নিজের ইচ্ছে মত ব্লগ করবেন যত খুশি।

কিন্তু শুরুতে অবশ্যই নিজেকে নির্দিষ্ট একটা ব্লগে ফোকাসড রাখবেন।

 

৫. মনিটাইজেশন স্ট্র্যাটেজি আগে থেকে ঠিক রাখবেন

আপনি যখন ব্লগ শুরু করার কথা চিন্তা করছেন ঠিক তখনই আপনি আপনার ব্লগ কীভাবে মনিটাইজ করবেন সেটা ফাইনালাইজড করে রাখেন।

যেমন অনেকেই গুগল এডসেন্স ইউজ করে সাইট মনিটাইজ করে কিংবা আপনি চাইলে আপনার নিশের সিমিলার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম দিয়ে ও আপনার সাইট মনিটাইজ করাতে পারেন।

গুগল এডসেন্স এবং নানা ধরনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকেই মুলত বেশী আয় করা যায়।

 

উপসংহার

এসব হচ্ছে ব্লগিং এর জন্য খুবই জরুরি কিছু টাস্ক। ব্লগিং শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে এসব ব্যাপার ক্লিয়ার করে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *